শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১   মাঘ ৯ ১৪২৭   ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পরিক্ষামূলক প্রচার

৪২৩

খুলনার নয় পাটকলে শ্রমিক আন্দোলন চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নিয়মিত মজুরি পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা আমরণ অনশন শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ২টা থেকে একযোগে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। 

রাষ্ট্রয়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদ ৬ দিনের কর্মসূচীর শেষ দিনে অনশন কর্মসূচি শুরু করে।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মো. মুরাদ হোসেন জানান, শ্রমিকরা সকাল থেকে পাটকলের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখে। বেলা ২টায় স্ব স্ব পাটকলের উৎপাদন বন্ধ রেখে মিলগেটে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করে। খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের ৪টি জুট মিলের শ্রমিকরা ক্রিসেন্ট গেটে তৈরিকৃত অনশন মঞ্চে আসে ও অনশনে যোগদান করে।

তিনি বলেন, ইতোপূর্বে বিএনপি জোট সরকারের আমলে আন্দোলনে জসীমসহ কয়েকজন শ্রমিক জীবন দিয়েছে। এবার ন্যায্য দাবি আদায়ে জীবন দিতেও প্রস্তুত তারা। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন করে চাকরি হারিয়েছি, মামলা ও জেল খেটেছি। এবার জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। 

প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ’র সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, “বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার অন্যতম দফা পাটখাতকে আধুনিকায়ন করা। এ কাজটি করতে শ্রমিকবান্ধব সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ জরুরী। এটা বাস্তবায়ন হলে পাটখাতের সাথে জড়িত শ্রমিক-কর্মচারীদের আর কষ্টের দিন থাকবে না।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “পাটকলের মালিক পরিষদের কতিপয় ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল। যে কারণে পিছিয়ে পড়ছি আমরা।”

প্লাটিনাম জুট মিলের সাবেক সভাপতি কওছার আলী মৃধা বলেন, “শ্রমিকরা কাথা কম্বল নিয়েই অনশনে নেমেছে।”

প্লাটিনাম মিলের সিবিএর সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, “মানুষ মরণশীল। মৃত্যু একদিন হবেই, পাটকল শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান করতে যদি মরতে হয় তবুও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচী চলবে।”

উল্লেখ্য, পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, মজুরি কমিশন কার্যকর ও প্রতি সপ্তাহের মজুরি প্রতি সপ্তাহে প্রদানসহ ১১ দফা দাবিতে গত ১৭ নভেম্বর ৬ দিনের কর্মসূচীর ডাক দেয় রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ। গত ২৫ নভেম্বর থেকে কর্মসূচী শুরু হয়। এ কর্মসূচীতে খালিশপুর শিল্প এলাকার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দিঘলিয়ার ষ্টার, আটরা শিল্প এলাকার আলীম, ইষ্টার্ণ এবং নওয়াপাড়া শিল্প এলাকার জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন।

এই বিভাগের আরো খবর